Funzbd | Bengali Shayari
Bengali Shayari-61
হে বর্ষা, এত বেশী ঝরো না যে আমার প্রেয়সী আমার কাছে আসতে না পারে। ও এসে যাওয়ার পর এর মুষলধারায় ঝরো যে ও যেন যেতেই না পারে।
Bengali Shayari-62
যে কোনদিন কিছু করেনি তার কাজ করা কি করে আসবে?
প্রাণ বাঁচিয়ে যে শুধু বাঁচতে চায় জীবনধানণ করে সে কি করে জানবে?
কেঁদে কেঁদে যার শুধু মৃত্যু ভিক্ষা করে তারা তো বাঁচতেই শেখেনি, তারা মরতেও জানবে কি করে?
নিঃশ্বাস নেওয়াই তো জীবন নয়, মৃত্যুও নয় শুধু নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া।
জীবনে ঝাঁপিয়ে পড়লেই জানা যায় জীবন কি, মৃত্যুকে জয় করতে পারলেই জানা যায় মৃত্যুর মানে।
Bengali Shayari-63
প্রেয়সীর উপর আমার অভিমান হয়েছে।
রাগ করে উঠে পড়লাম।
কিন্তু এই ভেবে ওর বাড়ি থেকে বেরিয়েছি যে,
এইবার ও ডেকে আমাকে থামিয়ে দেবে,
মিষ্টকথায় আমার অভিমান ভেঙ্গে দেবে।
ভেবেছিলাম হাওয়ায় আমার কাপড় উড়ছিল
সেই কাপড়ের কোণ ধরে আমকে বসিয়ে দেবে ও।
এমন ধীর পদক্ষেপে হাঁটছিলাম যে
ডাক দিলেই শুনে আমি ফিরে আসেত পারতাম।
কিন্তু ও এমন নিষ্ঠুর প্রিয়া, যে আমাকে একবারও ডাকল না,
আটকাল না, কাপড় ধরে টেনে বসালো না।
আশাহত আমি ধীরে ধীরে এগিয়েই চললাম।
আর আজ ওর থেকে এত দূরে চলে এসেছি যে
আমরা দু’জন চিরকালের মত আলাদাই হয়ে গেলাম।
ও ডাকল না, আমার ফেরা হল না,
Bengali Shayari-41
হে প্রেয়সী, বোকা ফুলটা তোমার রূপের সঙ্গে প্রতিযোগীতা করার সুঃসাহস করেছিল। সঙ্গে সঙ্গে বিরক্ত হাওয়া রেগে এসে ফুলের গালে লাগাল এক ঝড়ের চড়। লজ্জায় লাল হয়ে গার স্বীকার করতে বাধ্য হল সেই দুর্বিনীত ফুল।
Bengali Shayari-42
কারাগারে ছোট্ট বন্দী কবি। আলোর জন্য একটুখানি রোশনদান। কবি বলেছেন- রোশনদান থেকে আলো যখন নিভে গেল তখন বুঝলাম রাত হয়েছে, তোমার শূণ্য সিঁথি তারার মুক্তোতে ভরে গেছে হয়তো। তারপর একসময় অনেকক্ষন বাদে, যখন আমার ইস্পাতের হাতকড়িটা চিকচিক তরে উঠল, বুঝলাম সকাল হয়েছে। তোমারা মুখটা হয়তো সকালের মিঠে রোদ্দুরে রক্তিম হেয় উঠছে।
Bengali Shayari-43
স্বর্গ আর নরক কি আমি জানতাম না। হে প্রেয়সী তোমার সঙ্গে আমার মিলনই হল স্বর্গ, আর তোমার সঙ্গে আমার বিরহই হল নরক। এখন আমি জেনেছি স্বর্গ ও নরকের সংজ্ঞা কি।
Bengali Shayari-44
এসো প্রিয়া, আজ তোমাকে কাঁধে তুলে নিই, তুমি মুখটা তুলে তোমার দুষ্টু ঠোঁট দিয়ে চাঁদের মাথায় চুমু খেয়ে নাও।
আজ রাত্রে চাঁদটাকে দেখ, কনুইয়ের ওপর ভর দিয়ে চাঁদটা আমাদের কত কাছে চলে এসেছে।
এত কাছে যে তুমি উঁচু হয়ে মুখ বাড়ালেই তার ঠান্ডা কপালে ছোট্ট একটা চুমু এঁকে দিতে পার।
এসো প্রিয়া, এসো, তোমাকে তুলে ধরি।
Bengali Shayari-45
দেখ, ধীরে চল, আরও আস্তে। দেখ, ভেবে চিন্তে পা ফেলবে।
লক্ষ্য রেখ, কোথাও জোরে যেন পায়ের শব্দ বেজে না ওঠে।
এ নির্জনতায় কাঁচের তৈরী সব স্বপ্নরা ঘুমিয়ে আছে। দেখ তোমার পায়ের শব্দে না ভেঙ্গে যায় কোন স্বপ্ন, যেন জেগে না ওঠে।
সে তক্ষুনি মরে যাবে। ঘুমুতে যাও ওদের, জাগিও না। নিদ্রার জগতেই ওদের বিচরণ, নিদ্রাই ওদের জীবন আর জাগরণই ওদের মৃত্যু।
তাই বলছি, ধীরে চল, খুব ধীরে।
Bengali Shayari-46
শত্রুতা করার সময় হে বন্ধু, একটু ভেবেচিন্তে কর।
দেখ এত নিষ্ঠুর ভয়ংকর শত্রুতা কর না যে পরে যদি আমরা আবার বন্ধু হয়ে যাই তখন লজ্জিত হতে হয়।
তোমার শত্রুতার মধ্যে একটু ছেদ রেখ, সুযোগ রেখ বন্ধু।
যতির পরে পুরানো বন্ধুত্ব ফিরে পেলে লজ্জা নেই,
কিন্তু শত্রুতার চরমে যদি আজ বন্ধুত্ব ছিন্ন করে ফেল,
পুনর্মিলনের সময় লজ্জায় মুখ তোলা যাবে কি করে সুতরাং হে বন্ধু,
শত্রুতা করবার সময় সম্পর্কে ছেদ রেখ ছিন্ন করে ফেল না।
Bengali Shayari-47
সারা রাত তোমার স্বপ্ন দেখে সকালে যখন জেগে উঠলাম তখন চোখের তারায় তুমিই ভরে ছিলে।
তোমর মাদির যৌবনে ভরপুর ছিল আমার দৃষ্টির সরোবর।
রোদ্দুরভরা সকালটা ঝলমল করে উঠল তোমার পরিধেয় বস্ত্রের মতো স্বচ্ছ মাধুর্যে।
সকালের সদ্যজাতক হাওয়া তোমার দেহের মাদক গন্ধে ভারী ছিল।
তার কারণ আমি জানি।
আমি জানি এ হাওয়া তোমরা শেবার ঘরে তোমার নিদ্রাশিথিল দেহবল্লরী ছুঁয়ে এসেছে।
তোমার স্পর্শে আনন্দেই হাওয়ার এই মাতাল শ্লথচারিতা, এই সুরভির সম্ভার।
Bengali Shayari-48
হে প্রেয়সী, তোমকে কি করে বোঝাব আমার অশ্রুজলের মানে । চোখের কোণে যখন ছলকে ওঠে টলটলে অশ্রুর উষ্ণ বিন্দু, তখন সেটা হল আগুনের স্ফুলিঙ্গ, আর গাল বেয়ে গড়িয়ে যখন ঝরে পড়ে সেই অশ্রুর ফোঁটা, তখন নেহাতই সেটা এক বিন্দু জল।
Bengali Shayari-49
যৌবনে একবার অন্তত আঘাত খাবার প্রয়োজন আছে। প্রেমের জন্য প্রেয়সীর কাছ থেকে একবার আঘাত না পেলে যৌবনের সোনা পবিত্র হয়ে ওঠে না। যেমন সম্পূর্ণ কাহিনীর জন্য একটি নামের প্রয়োজন হয়, তেমনি যৌবনের সম্পূর্ণতার জন্য প্রয়োজন হয় একটি আঘাতের।
Bengali Shayari-50
ওরা কারা যাদের পাপ করার পর প্রায়শ্চিত্ত করার জন্যেও সময় জুটে যাচ্ছে? আমরা তো জীবন এত স্বল্প লাগছে যে এক-আধটু যে পাপ করব, তারও সময় জুটছেনা!
বিদ্যুৎ এর চমক আমাকে সত্যি আনন্দে ভরে দেয়। কেননা আমার প্রিয়া, যে আমার নাম শুনে ভয় পায়, সে কিন্তু বিদ্যুৎ বজ্রপাতের সময় আকংকে আমাকেই জড়িযে ধরে। বিদ্যুৎ চমকানোর জন্যই আমার কপালে প্রিয়ার কোমল শরীরের আলিঙ্গন জুটে যায়। সেজন্যই বলছি বিদ্যুৎ চমকানো অন্যদের হয়ত ভাল লাগে না, আমাকে কিন্তু খুবই আনন্দ দেয় সে।
Bengali Shayari-51
হে প্রেয়সী তোমার এ অপূর্ব ক্ষমতা দেখে মরে যেতে কার না ইচ্ছে করবে! অবাক কান্ড আল্লাহ, যুদ্ধ করে যারা বীরাঙ্গনার মতো অথচ হাতে তলোয়ারও নেই। প্রেমের অসিযুদ্ধে প্রেমিকার যৌবনমদমত্ত শরীরই তো হয়ে ওঠে সূতীক্ষ্ণ তরবারী। হাতে প্রয়োজন কোথায় লৌহনির্মিত তলোয়ারের….
Bengali Shayari-51
যে আগুন তুমি আমার জীবনে লাগিয়েছ আমার অশ্রুজল তাকে নির্বাপিত করেছে। কিন্তু এখন আমার এই কান্নার জল যে আগুন লাগিয়েছে আমার হৃদয়ে তাকে ঠান্ডা কে করবে?
Bengali Shayari-52
যখন নৌকা অটুট ছিল তখন তীরের চিন্তা আমি কোনদিন করিনি। কেননা যখন খুশি তীরে পোঁছে যেতে পারতাম। এখন যখন আমার নৌকা ভেঙ্গে গেছে এখনও আমি তীরের চিন্তা করি না। কেননা যতই চেষ্টা করি না কেন তীরে আমি কোনদিনই পোঁছাতে পারব না।
Bengali Shayari-53
তোমাকে চাইবো, তোমায় যারা চান তাদেরও চাইবো? এত বড় কঠিন সওদা। তার চেয়ে আমার হৃদয আমাকে ফিরিয়ে দাও, ও সওদা করতে আমি রাজি নই।
Bengali Shayari-54
তুমি কি কখনও কারুর প্রাণ চলে যেতে দেখেছ? দেখনি? ঐ দেখ আমার উপর অভিমান করে আমর প্রাণ চলে যাচ্ছে। প্রেয়সীকেই কবি বলেছেন ‘মেরি জান’ অর্থাৎ কবির প্রাণ। প্রেয়সীর অভিমানভরে চলে যাওয়া কি প্রাণ চলে যাওয়ার চাইতে কম দুঃখজনক? কম ক্লেশকর। কম শোকাবহ?
Bengali Shayari-55
প্রেয়সীর সঙ্গে আমার মিলনের রাত এ জীবনে আমার ভাগ্যেই নেই। যদি আয়ু আমার আরও বেড়ে যেত তবুও এ দূর্ভাগ্যই কপালে থাকত। আমার অপেক্ষায়ই থাকতে হত আমাকে। এ প্রতীক্ষাই আমার ভাগ্যলিপি, জীবনের দিন বাড়লে সেটা হত অপেক্ষারই করুণ দিনলিপি।
Bengali Shayari-56
তোমার পৃথিবী, তোমার হৃদয় ছেড়ে কোথায় যাব বল? আমি হচ্ছি ফুলের সুগন্ধ। ফুল ছেড়ে কোথায় আর যেতে পারি আমি? তুমি আমার ফুল আর প্রেম আমার হল সেই ফুলের সুরভি। ফুল ছেড়ে সুরভি কি চলে যেতে পারে?
Bengali Shayari-57
মধ্যরাতে ঝমঝম করে যখন বৃষ্টির কান্না ঝরে পড়ে তখন আমার মনে হয় এই কালো কালো মেঘগুলোর পর্দার পেছনে এমন কেউ কেউ হয়ত রয়েছে যাদেরও হৃদয় আছে আমাদেরই মত। যা মানবিক বিষাদে ভরা, অনুভূতিতে জীবন্ত, বেদনায় আর্ত ক্রন্দনে মূর্ত। হৃদয়বান না হলে সে কাঁদবে কেন? কেন হবে অর্ধরাতে এই প্রবল বিষন্নবর্ষণ?
Bengali Shayari-58
দুটো বিপরীত দূর্বিনীত হাওয়ার যুদ্ধেই জন্ম নেয় তুফান। আমাদের জীবনে যে প্রেমের ঝড় উঠেছে সেটাও দু’টি তীব্র হাওয়ারই মিশ্রণ। নইলে বল, কেনই বা তুমি এত সুন্দরী হয়েছ, কেনই বা আমি এত য়ৌবনমত্ত হয়েছি? তোমার রূপ ও আমার যৌবন এই দুই দূর্বীনীত কামনার হাওযাতেই আমাদের প্রেমের এই তুফানের জনম।
Bengali Shayari-59
যারা তোমার সঙ্গসুধা পান করেছে তারা নিশ্চয়ই ভাগ্যবান। কিন্তু তোমার স্বপ্ল বুকে নিয়ে যারা মরে গেল, তোমার প্রেমের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যারা ব্যর্থ প্রেমে জ্বলে পুড়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল তাদের মহত্ত্ব আলাদা। তাদের ভাগ্যহীনতাই প্রেমিক হিসেবে এক জাতের অমরত্ব দান করে যা অকল্পনীয়, অনির্বচনীয়, অপ্রকাশ্য।
Bengali Shayari-60
এমন তো কথা নয় যে পৃথিবীতে তোমার চাইতে সুন্দরী আর কোথাও নেই। কিন্তু কি করব আমার এ হৃদয় অন্য কারুর কাছে যাবে না। শুধু তোমার জন্য এ হৃদয় পাগল হয়ে উঠেছে। বোঝালেও এ অবুঝ হৃদয় কিছুতেই বুঝবে না।
Bengali Shayari-21
পৃথিবীতে নিজের খুশিমতো আসিনি, খুশিমতো যাবও না। জীবন হাত ধরে নিয়ে এসেছিল তাই এসেছি। মৃত্যু হাত ধরে নিয়ে যাবে, চলে যাব।
Bengali Shayari-22
আমার তো কোন হূশ নেই, হয়তো তুমি খবরটা শুনে থাকবে- লোকে বলাবলি করছে তুমিই আমার সর্বনাশ করেছ, সর্বস্বান্ত করেছ।
Bengali Shayari-23
আমি যে এত বেশী ভালবেসে ফেলেছি বলে আমাকে তোমরা পাপী, অপরাধী ভাবছ, একবার ওকে তো জিজ্ঞেস করে দেখ, হে নারী, তুমি এত রূপসী, এত সুন্দরী, এত লাবণময়ী কেন হয়েছ? এক অঙ্গে এত রূপ এটা কি অপরাধ নয়? অপরাধ শুধু রূপের পুজারির? রূপের নয়?
Bengali Shayari-24
আমার বিফল প্রেমের দুর্দশা দেখে এখনই কাঁদবেন না। বন্ধুগণ, আমার সর্বনাশ হবার আরও অনেক বাকি। দুঃখের এই তো শুরু। আমার অধঃপতনের সীমা আরও অনেক নিচে। আরও কারাপ হবার বাকি আছে, আরও তলিয়ে যেতে হবে আমাকে অনেক গভীরে।
Bengali Shayari-25
বিচ্ছেদের পর আমাদের দু’জনের মিলন কোথায় হবে? কোথায় তোমায় পাবো? জানি, পাবো শুধু স্মৃতিস্বপ্নের আকাশে। যেমন পূজোর পবিত্র শুকনো ফুল অনেকদিন পরে মানুষ হটাৎ খুঁজে পায় বইয়ের পাতার ভাঁজে। তোমার পবিত্র সুখস্মৃতির ফুল তেমনি হঠাৎ খুজে পাবো আমার স্বপ্নায়নের পাতার ভাঁজে। কালগ্রাসে বিবর্ণ, মুষ্ক। কিন্তু পবিত্র, সংরক্ষিত।
Bengali Shayari-26
আপনার প্রেমে আমি আত্মদান করেছি, সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছি। এখন আপনি আমাকে প্রেমের প্রদীপ, পূজোর ফুল বা পায়ের দাগ যা ইচ্ছে বলতে চান বলতে পারেন। আপনার সে অধিকার রয়েছে। আপনার শ্রদ্ধা, আপনার প্রেম, আপনার ধিক্কার সব কিছুই শিরোধার্য। সব কিছুই আমার গ্রহণীয়, সব কিছুই আমার পরম প্রাপ্য।
Bengali Shayari-27
বালিশে তোমার চুলের ঘুর্ণিজাল, চাদরে তোমার শরীরের মদির সুগন্ধ, হাতে আমার তোমার মাদক চেহারার উত্তাপ, কপালে তোমার বিশ্বাসের চুম্বনে শুকতারা। প্রিয়া আমার, তুমি আমার এত কাছে রয়েছো, তোমার সান্নিধ্যে এত নিকটে যে তোমার মুখটা প্রানভরে দেখবো তারও উপায় নেই । সোনা আমার, একটু যদি সরে বসো তাহলে তোমার মুখটা দেখতে পাই। একটু সরে বসবে? তোমাকে দু’চোখ ভরে দেখতাম
Bengali Shayari-28
নিজের ঘরে এসে দেখছি আমি নিজের ঘরেই পর হয়ে গেছি। অপরিচিত হয়ে গেছি। আমাকে দেখে আমার আত্মা ভয় পেয়ে গেছে, আমার ইচ্ছাগুলো ভয়ে কোণে গিয়ে লুকিয়েছে, আমার আশা মুখ বন্ধ করে মৌন হয়ে রয়েছে, আমার সখগুলো আমাকে চিনতেই পারছে না আর আমার আকাঙ্খার স্বপ্নেরা ঘরের চৌকাঠে মাথা রেখে মরে পড়ে রয়েছে!
Bengali Shayari-29
তুমি টের পাওনি, তুমি নিদ্রার কোলে সুপ্ত ছিলে কিন্তু তোমার রূপের আগুনে পাগল হয়ে সারা রাত কত তারা যে তোমার কাছে আসতে গিয়ে কক্ষচ্যুত হয়ে ছুটে ছুটে আকাশ থেকে খসে গিযে ভস্ম হয়ে গেছে। সেখবর তুমি জান কি? না তুমি জান না।
Bengali Shayari-30
কঠিন যাতনাময় ছিন্নভিন্ন দিন, বিনিদ্র ভগ্নাংশ রাত, এই আমি পেয়েছি।
জীবন এইরকমই যার আঁচল যতটুকু ততটুকুই ভাগ্যদেবী তাকে দিয়ে থাকেন।
হৃদয়কে যতবার বোঝাবার চেষ্টা করেছি ততবারই শুনেছি কেউ যেন হেসে উঠেছে আর বলছে-হৃদয় বুঝে তুই কি করবি?
নে, তোকে মৃত্যু দিলাম, এটা বুঝে নাও। মৃত্যু কি সেটাও কি ছাই আমি বুঝতে পেরেছি?
না মৃত্যু কি তাও বুঝলাম না। শুধু জানি আট প্রহর ধিকি ধিকি জ্বলে যেতে হবে।
হৃদয়ের মতো সঙ্গী যখন জুটে গেছে জানি হৃদয়যন্ত্রণার হাত থেকেও নিষ্কৃতি নেই আমার।
হৃদয় মানেই হৃদয়যন্ত্রণা এটুকু জানি। এর চেয়ে বেশী আর আমি জীবন হৃদয়, মৃত্যু সম্পর্কে কিছুই জানি না। কিছুই না।
Bengali Shayari-31
দীর্ঘ পথ চলতে চলতে যখন আমার কাঁধ ঝুঁকে আসে, চড়াই-এর উচ্চতায় যখন হাঁপিয়ে উঠি,
যখন নিঃশ্বাস বুকের একপাশে জড়ো হয়ে ফুলে ওঠে আর মনে হয়, আমার চলবার শক্তি নেই,
এখানেই থেমে যেতে হবে আমার,- তখন আমারই লেখা ছোট্ট একটা কবিতা আমার সামনে এসে বলে,- হে কবি হে আমার স্রষ্টা,
এসো আমার কাঁধে হাত রাখো, এসো, আমি তোমার সমস্ত বোঝা তুলে নিই।
Bengali Shayari-32
প্রেয়সীর সঙ্গে প্রথম দৃষ্টি বিনিময়েই মনে হল যেন বহুদিনের পুরানো বন্ধু দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর আবার মিলিত হল। এ যেন নতুন পরিচয় নয়, পুণঃমিলন মাত্র।
Bengali Shayari-33
এবার তাহলে যাই। যাবার আগে তোমার কাছে আমার হৃদয়টাকে রেখে যাচ্ছি। মাঝে মাঝে সে তোমাকে আমার কথা মনে করিয়ে দেবে।
হৃদয়ের জন্য বেদনা রয়েছে হৃদয়ের জন্য আনন্দও। এই যে পৃথিবী, এখানেই নরক রয়েছে, এখানেই স্বর্গ। সফল প্রেমই স্বর্গ, বিফল প্রেমই নরক।
Bengali Shayari-34
হৃদয়ে তোমার বেদনাময় স্মৃতি মাঝে মাঝে এসে হাজির হয়। যে ভুলে যাওয়া কোন মন্দিরে পুরানো প্রেমের, অতীতের কোন, আপনজনের কথা মনে পড়ে যায়। হৃদয় তো মন্দিরের মতোই, প্রেম তো পূজা, স্মৃতি তো পুণ্যময়তা।
Bengali Shayari-35
যে হৃদয় থেকে প্রেম বিদায় নিয়েছে, যে হৃদয় শূন্য হয়ে গেছে, সে হৃদয়কেও হৃদয়ই বলতে হয়! যেন যে বাগান শুকিয়ে গেছে, তৃণপত্রপুষ্পহীন হয়ে পড়ে রয়েছে তাকেও ‘বাগান’ই বলতে হবে। প্রেমহীন হৃদয় কি হৃদয় পদবাচ্য? মরুভূমিকে কি নন্দনকানন বলা উচিত?
Bengali Shayari-36
নারী দেহবল্লরীতে উরজের উল্রাস। দেখ। দেখ স্তনের অপরূপ শোভা। নারীর স্তন যেন নদীর ঢেউ, যেন তুর্কীর গর্বিত সৈনবাহিনী, যেন বিস্ফোরণপূর্বের বোমা, যেন একট উল্লাসিত স্বাস্থ্যোজ্জ্বল বালক, যেন স্বপ্নসলিলে ভরা একটি কলস, যেন রূপলাবণ্যের এক সমুদ্র, যেন চন্দননির্মিত এক মূর্তি, যেন যৌবনের এক তীর্থক্ষেত্র।
Bengali Shayari-37
তীরের জন্য যাদের প্রাণ আনচান করে কাঁদে তাঁদের আগে থেকেই সাবধান করে দিই। প্রেমের সাগরে নামার আগে জেনে নেয়া ভাল, এ সমুদ্রের কোন তীরই হয় না।
Bengali Shayari-38
সুরা দেবার সময় কপালে এরকম কুটিল রেখা এঁকো না তুমি। সুরা মানে আনন্দ, সুতরাং এ আনন্দদায়ক পানীয় হাসিমুখে পান করাও। মনে রেখো, নেশা সুরার পরিমাণের উপর নির্ভর করে না। সুরা কম থাকলে আমার চোখে চোখ মিলিয়ে সুরা ঢেলো তাতেই আমার চরম নেশা হয়ে যাবে।
Bengali Shayari-39
তুমি এখনও অপ্রাপ্তবয়স্কা কিশোরী, এখন যদি হৃদয় দিই কোথাও হয়ত হারিয়ে বসবে। তোমার জন্যই রাখা রইল, যখন বড় হয়ে উঠবে, কিশোরী থেকে হয়ে উঠবে সদ্যযৌবনা, তখন নিয়ে নিও।
Bengali Shayari-40
মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা আমার এত আনন্দমিশ্রিত কেন জানতে চাও? কারণ লোকমুখে শনেছি আমার নিষ্ঠুর প্রেয়সী নাকি আমার মৃতদেহ দেখতে আসবে।